এবার আল কায়েদার টার্গেট বাংলাদেশ

posted Sep 7, 2014, 8:13 AM by news reporter   [ updated Sep 7, 2014, 8:15 AM ]
এবার আন্তর্জাতিক জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল কায়েদার টার্গেট বাংলাদেশ
লেখক : বাসুদেব পাল (Mob : 09674514952)
আল কায়েদা
এবার আন্তর্জাতিক জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল কায়েদার টার্গেট বাংলাদেশ। বুধবার অনলাইনে পোস্ট করা এক ভিডিওবার্তায় এই ঘোষণা দিয়েছেন আল কায়েদা প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরি। তাঁর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতে জঙ্গী হামলার পর আল কায়েদার টার্গেট পরিণত হলো বাংলাদেশ। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আল কায়েদাপ্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরির ভিডিও ইন্টারনেটে ছাড়া হয়। তখন জাওয়াহিরির এই ভিডিও ইন্টারনেটে ছাড়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় জামায়াত-শিবিরের ওয়েবসাইট বাঁশের কেল্লার পেজ এ্যাডমিন রাসেল বিন সাত্তারকে। রাসেলকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাষ্ট্রদ্রোহ ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের মামলা এখন বিচারাধীন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত ‘টাইম ম্যাগাজিনে’ ২০০২ সালের ২০ অক্টোবরে ‘ডেডলি কার্গো-বাংলাদেশ হ্যাজ বিকাম এ সেফ হেভেন ফর আল কায়েদা’ প্রকাশিত নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী ও জঙ্গী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান ওসামা বিন লাদেন ও আয়মান আল জাওয়াহিরি ছদ্মবেশে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে সফর করেছেন। এদিকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জাওয়াহিরির ভিডিও প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, সরকার বিচলিত নয়, জঙ্গীবাদ দমনে কঠোর অবস্থানে আছে সরকার।গত ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদী এই সংগঠন প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরির ভিডিও ইন্টারনেটে ছাড়ার অভিযোগে জামায়াত-শিবিরের ওয়েবসাইট বাঁশের কেল্লার পেজ এ্যাডমিন রাসেল বিন সাত্তারকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। রাসেল বিন সাত্তারকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদে আল কায়েদার সঙ্গে জামায়াত-শিবির কানেকশন বের হয়ে আসতে শুরু করে। আমেরিকার বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে এবার যুদ্ধের ফ্রন্ট হিসেবে ব্যবহার করার জন্য বেছে নেয় আল কায়েদা। এ জন্য আল কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান ওসামা বিন লাদেন আমেরিকার কমান্ডো বাহিনীর হাতে পাকিস্তানে নিহত হওয়ার আগে বর্তমান প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরিকে নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ২০০২ সালে আল কায়েদার এই দুই সন্ত্রাসবাদী নেতা ছদ্মবেশে চট্টগ্রামে এসে মাসাধিককাল জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদী উগ্র মৌলবাদী ধর্মান্ধ নেতাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেন। আল কায়েদার সঙ্গে তখন থেকেই জামায়াত-শিবির ও তার সহযোগী জঙ্গী গোষ্ঠীর সঙ্গে গোপন কানেকশন গড়ে ওঠে। জামায়াত-শিবিরের ওয়েবসাইট এ্যাডমিন রাসেল বিন সাত্তার গ্রেফতার হওয়ার পর থলের বিড়াল বের হয়ে আসতে শুরু করে। 
জাওয়াহিরির ভিডিওবার্তা ॥ বুধবার অনলাইনে পোস্ট করা ৫৫ মিনিটের ভিডিও বার্তায় উপমহাদেশে আল কায়েদার শাখা গঠনকে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভারতের অসম, গুজরাট, আহমেদাবাদ ও কাশ্মীরের মুসলমানদের জন্য ‘আনন্দের খবর’ বলে অভিহিত করেন আয়মান আল জাওয়াহিরি। এই পদক্ষেপ উপমহাদেশে ইসলামিক আইনের প্রসার ও ‘জিহাদের পতাকা সমুন্নত রাখবে’ বলে ঘোষণা দেন তিনি। এই ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, আল কায়েদার নতুন এই শাখা এ অঞ্চলের মুসলমানদের ‘অবিচার ও আগ্রাসন’ থেকে উদ্ধার করবে। 
আল কায়েদাপ্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরি মুসলমান উদ্দেশে বলেন, ‘নিজেদের ভূমি মুক্ত করতে, এর সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনতে এবং খিলাফত পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হবে।’ ভিডিওবার্তায় আফগানিস্তানের তালেবান নেতা মোল্লা ওমরের প্রতি আনুগত্য জানান জাওয়াহিরি।আল কায়েদা পাল্লা দিতে চাইছে ॥ 

জঙ্গীবাদ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কর্মী টানার চেষ্টার প্রক্রিয়া হিসেবে ভারতীয় উপমহাদেশে আল কায়েদার শাখা গঠনের এই ঘোষণা দেয়া হতে পারে। ইরাক ও সিরিয়া সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আইএসের খেলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা বিশ্বব্যাপী ‘ধর্মীয় উগ্রপন্থী তরুণদের নাড়া দিয়েছে। মার্কিন দুই সাংবাদিককে শিরñেদ করার মধ্য দিয়ে সারা দুনিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঝিমিয়ে পড়া আল কায়েদার জঙ্গীদের ফের জিহাদী কর্মকা-ে আরও অংশগ্রহণ ও উত্তেজিত করার দুনিয়াব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসতে চান আল কায়েদার প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরিসহ সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।জঙ্গীবাদ দমনে কঠোর অবস্থানে সরকার ॥

আল কায়েদাপ্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরির ভিডিওবার্তার প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ‘জঙ্গী দমনে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। আল কায়েদার বাংলাদেশে কার্যক্রম চালানোর ঘোষণায় সরকার বিচলিত নয়। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। বিষয়টি আমরা দেখছি, পর্যালোচনা করছি।’ বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের কোন স্থান নেই উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে জঙ্গীবাদের উত্থান ঠেকাতে সরকার তৎপর রয়েছে। সুতরাং আমরা বিচলিত নই।’বাংলাদেশে এসেছিলেন লাদেন ও জাওয়াহিরি ॥ যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত ‘টাইম ম্যাগাজিনে’ ২০০২ সালের ২০ অক্টোবরে ‘ডেডলি কার্গো-বাংলাদেশ হ্যাজ বিকাম এ সেফ হেভেন ফর আল কায়েদা প্রকাশিত নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী ও জঙ্গী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান ওসামা বিন লাদেন ও আয়মান আল জাওয়াহিরি ছদ্মবেশে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে এসেছিলেন। টাইম ম্যাগাজিনের রিপোর্টার এলেক্স পেরির লেখা নিবন্ধ থেকে জানা যায়, ২০০২ সালে আল কায়েদা গ্রুপের বিরাট একটি অংশ ঢাকায় আসে। আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য বাংলাদেশকে ফ্রন্ট হিসেবে ব্যবহার করার জন্যই ঢাকায় আসে আল কায়েদা গ্রুপটি। নিবন্ধে উল্লেখ করা হয় যে, নাম প্রকাশ ছাড়াই বিদেশী দূতাবাসের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমকে তখন বলেছেন, আল কায়েদাপ্রধান ওসামা বিন লাদেন ও আয়মান আল জাওয়াহিরি চট্টগ্রামে এসে মাসাধিককাল অবস্থান করেছেন। চট্টগ্রামের জঙ্গী ও উগ্র মৌলবাদী ধর্মান্ধ সন্ত্রাসবাদী গ্রুপের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেছেন তাঁরা। বৈঠকে আল কায়েদার নেতারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তাঁরা যে পরবর্তী হামলা চালাবে সেজন্য বাংলাদেশকে তারা একটি ফ্রন্ট হিসেবে ব্যবহার করতে চান। যুক্তরাষ্ট্রকে তার কৃত অপরাধের জন্য শাস্তি দিতে চান তাঁরা। বাংলাদেশের ইসলামী গ্রুপের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদক এলেক্স পেরি লিখেছেন, সে বছরের মার্চ মাসে আয়মান আল জাওয়াহিরি ঢাকায় এসে অবস্থান করেন। উগ্র মৌলবাদী ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের কম্পাউন্ডে বৈঠকে মিলিত হন তিনি। তখনকার বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা ডিরেক্টর জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই) টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদককে বলেছিলেন, বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের সীমান্তের রোহিঙ্গা উপজাতিদের সঙ্গে বৈঠক করে বার্মায় প্রবেশ করেন লাদেন ও জাওয়াহিরি।বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় ॥ যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনে ২০০২ সালে প্রতিবেদক এলেক্স পেরি যখন আল কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা প্রধান ওসামা বিন লাদেন ও আয়মান আল জাওয়াহির বাংলাদেশের আসার নিবন্ধ প্রকাশ করেন তখন বাংলাদেশের ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদ ব্যাপকভাবে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এমনকি ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী উলফারা দলে দলে বাংলাদেশে এসে ঘাঁটি গেড়ে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসে বাংলাদেশের জঙ্গীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। জঙ্গী সংগঠনগুলোর ব্যাপক তৎপরতার সময়ে আল কায়েদার নেতাদের এখানে আসার মধ্য দিয়ে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসবাদের যে বীজ বপন করা হয়েছে তার এখন দিনে দিনে মহীরুহে পরিণত হয়ে আবারও হুমকি হয়ে দেখা দিচ্ছে।জামায়াতের বাঁশের কেল্লার রাসেল ॥

 যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার মৃত্যুদ-াদেশ কার্যকর করার আগে তাকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়ার প্রতিবাদে মৃত্যুদ-াদেশ দেয়ার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চ। শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ প্রতিষ্ঠা হলে তার বিরুদ্ধে বাঁশের কেল্লাসহ নানা ধরনের ওয়েবসাইট খুলে অপপ্রচার শুরু করে জামায়াত-শিবির। জামায়াতÑশিবিরের যেই গোষ্ঠীটিই এই অপপ্রচার শুরু করে তাদেরই একজন রাসেল বিন সাত্তার। এই রাসেল বিন সাত্তার আল কায়েদা প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরির ভিডিও ইন্টারনেটে ছাড়ার পর গ্রেফতার হয়। মোঃ রাসেল বিন সাত্তার খানই (২১) আল কায়দার শীর্ষ নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির ভিডিও বার্তা দেশে ব্যাপকভাবে প্রচার করার পর দেশ-বিদেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। রাজধানী ঢাকার অদূরে টাঙ্গাইল সদরের মাঝিপাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে আল কায়েদার প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরির ভিডিও বার্তাটি ইন্টারনেটে ছাড়ার ঘটনার কথা স্বীকার করেন। টাঙ্গাইলের টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের শেষ বর্ষের ছাত্র রাসেল। 
যা বলেছিল র‌্যাব ॥ র‌্যাব সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাসেলকে গ্রেফতার ও অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয় র‌্যাব কর্মকর্তারা। রাসেল নিজেই তার এই অডিও বার্তা প্রচারের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য দেয় বলে জানায় র‌্যাব। র‌্যাব জানিয়েছে, রাসেল ছাত্র শিবিরের ওয়েবসাইট বাঁশের কেল্লা পেজের এ্যাডমিন। বিভিন্ন ছদ্মনামে একাধিক নিষিদ্ধ ও বিতর্কিত ব্লগ আমার দেশ ভাবনা, বাঁশের কেল্লা ভার্সন-২, দৃষ্টিভঙ্গি, গণতন্ত্র নিপাত যাক এবং ইসলামের আলো ইত্যাদি ইন্টারনেট পেজ পরিচালনার মাধ্যমে নানা প্রকার দেশবিরোধী অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিমূলক কার্যকলাপে জড়িত বলে স্বীকার করেছে র‌্যাব। রাসেল র‌্যাবকে বলেছে, ২০১০ সাল থেকে ফেসবুক ব্যবহার করে সে। ফেসবুকে অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। সে ব্লগার ও লেখালেখি করে। সেখান থেকে কিছু পায় তা আপলোড করে। মোবাইলে গান বাজনা রাখা ঠিক নয়, ইসলাম বিরুদ্ধ। তাই মোবাইলে ওয়াজ ও গজল রাখি। আমার ব্লগে দাওয়া ইল্লাহর লিংক আছে। আমার মাধ্যমে প্রচার হয়েছে। এজন্য আমি দায়ী। দাওয়া ইল্লাহর ওয়েবসাইটে যা আপলোড হয় তার সবই আমার কাছে চলে আসে। দাওয়া ইল্লাহ নামে একটি গ্রুপ আছে। তারা আমাকে এ্যাড করেছে। ওখানে আমার নাম আছে। জেহাদী ও জামায়াত-শিবির নিয়ে ব্লগে লেখালেখি করি।

পাকিস্তানভিত্তিক সংস্থা দাওয়া ইল্লাহ ॥ র‌্যাবের লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের প্রধান উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেছেন, আল কায়েদা প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরি অডিও বার্তাটি নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কের সূচনা হয়। র‌্যাব এটা প্রচারের সঙ্গে কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে দিনরাত কাজ করে। টানা ২৪ ঘণ্টার পরিশ্রমের পর মঙ্গলবার সকালে মাঝিপাড়া থেকে গ্রেফতার করা হয় রাসেলকে। সে একজন ব্লগার। অসংখ্য ফেসবুক পেজের এ্যাডমিন সে। এই অডিও বার্তাটি ৩০ নবেম্বর দাওয়া ইল্লাহ নামে সাইটে আপলোড করা হয়। এটি পাকিস্তানভিত্তিক সংস্থা। এটি আল কায়েদা ও সংশ্লিষ্ট চিন্তাবিদদের বার্তা প্রচার করে থাকে। জিহাদোলজি ওয়েবসাইটে প্রচারের পর ওই সাইটই পরবর্তীতে অডিও বার্তাটি আপডেট করে। ১৪ জানুয়ারি আবারও আপডেট করা হয়। পরবর্তীতে ‘আমার দেশ ভাবনা’ এবং ‘ইসলামের আলো’ নামে রাসেলের নিজের দুটি ব্লগে পোস্ট করে ৮ ফেব্রুয়ারি। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। রাসেল সক্রিয়ভাবে এই প্রচারণার সঙ্গে জড়িত। তার ওয়েবসাইট ও ব্লগে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 
ইরানের প্রেসিডেন্টের কাছে ই-মেইল ॥ র‌্যাবের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছরের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকা-ের অভিযোগ এনে বিভিন্ন লেখা ও ছবি ইরানের প্রেসিডেন্টের কাছে ই-মেইল করেছে রাসেল। গত ৭ মে এসব তথ্য ই-মেইলে পাঠায় সে। ফেসবুকে থাকা তার অসংখ্য আইডি ও ব্লগের মাধ্যমে রাসেল জাওয়াহিরির ভিডিও বার্তাটি ইন্টারনেটে প্রচার করেছে। সে ওয়েব ডেভেলপার হিসেবেও কাজ করে। রাসেলকে আটক করার পর তার কাছ থেকে তিনটি মুঠোফোন, দুটি ল্যাপটপ এবং অসংখ্য জিহাদী বই উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

যা বলেছে রাসেল ॥ র‌্যাব আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতার হওয়া রাসেল বলেছে, আল কায়েদা প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরির ভিডিও প্রচারের জন্য দায়ী সে। সে জানায়, বিভিন্ন ইসলামিক সাইটের প্রতি আগ্রহ রয়েছে তার। ‘দাওয়াহ ইল্লালাহ’ নামে একটি সাইটের লিংকে লাইক দেয় সে। ওই সাইট থেকে আল জাওয়াহিরির ভিডিওটি তাঁর কাছে আসে। পরে সেই ভিডিওটি নিজের বিভিন্ন সাইট ও ব্লগে ছড়িয়ে দেয় সে। রাসেল জানায়, লাইক দেয়ায় ভিডিওটি তাঁর কাছে আসে। এর পর সেটি তাঁর ব্লগে প্রচার করে সে। তবে ইউটিউবে সে ভিডিওটি আপলোড করেননি বলে জানায়। রাসেল এখনও কারাগারে আছে বলে জানান র‌্যাবের লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান। তার মামলাটি এখনও বিচারাধীন।

জিহাদোলজি ডটনেট ওয়েবসাইটে ॥ জিহাদোলজি ডটনেট ওয়েবসাইটে রয়েছে ইন্টারনেটে প্রচারিত ‘বাংলাদেশ: ম্যাসাকার বিহাইন্ড এ ওয়াল অব সাইলেন্স’ শীর্ষক ভিডিও বার্তাটি। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নজরে আসে ২৯ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তা। ভিডিও বার্তায় দেখা যায়, আরবীতে আল কায়েদার প্রধান জাওয়াহিরি বক্তব্য দিচ্ছেন। আর নেপথ্যে তাঁর স্থিরচিত্র। পর্দার নিচে ভেসে উঠছে বক্তব্যের ইংরেজী অনুবাদ। সেখানে বাংলাদেশে ‘ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্রের’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানানো হয়। বার্তার শুরুতে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ওপর হামলার স্থিরচিত্র দেখানো হয়। বাংলাদেশ সরকারকে ‘ইসলামবিরোধী’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। বক্তৃতার একটি অংশে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীর বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের বিচার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় আল কায়েদার প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরিকে।
গোয়েন্দা সংস্থা ডিবির সাবেক ডিসি সৈয়দ বজলুল করিম এ বিষয়ে দৃষ্টি জানান, গত ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে সরকার গঠিত হওয়ার পর দেশে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার মাধ্যমে অগ্রগতি হচ্ছে। সরকারের ওপর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য দেশী জঙ্গীদের সহায়তায় তারা লস্কর-ই-তৈয়বা ও আল কায়েদাকে মাঠে নামিয়ে দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে অগ্রগতির যাত্রাকে স্তব্ধ করে দিতে চায়।

 জামায়াতÑশিবির ও জঙ্গীবাদের সঙ্গে আল কায়েদার যোগসূত্র না থাকলে বার বার তার ভিডিও বার্তা পোস্ট করা হবে কেন? বাংলাদেশে আল কায়েদার ঘাঁটি বা দুর্গ করা হলে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। আফগানিস্তান, পাকিস্তানের করুণ পরিণতির কথা চিন্তা করেই বাংলাদেশকে আল কায়েদার খপ্পর থেকে রক্ষা করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

Comments