চন্দন কাঠ উদ্ধার, আবার জড়াল চম্প্রমারির নাম

posted Oct 18, 2015, 8:43 AM by news reporter   [ updated Oct 18, 2015, 8:48 AM ]
Red-sandal-wood
চন্দন কাঠ পাচারের সুতোয় ইতিমধ্যেই জড়িয়েছে নাম।
জুলাইয়ের গোড়ায়, কালচিনির পাহাড়তলিতে তাঁর গ্রাম থেকেই উদ্ধার হয়েছিল বিপুল পরিমাণ রক্ত চন্দন কাঠের গুঁড়ি। শনিবার, শাসক দলের সেই বিধায়ক, উইলসন চম্প্রমারির গ্রামে ফের হানা দিয়ে প্রায় সাড়ে আট কুইন্ট্যাল চন্দন কাঠ উদ্ধার করল বন দফতর।
ঘটনাটি বিধায়কের বিরুদ্ধে তাদের সন্দেহ যে অমূলক নয়, তা-ই প্রমাণ করছে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।
এ দিন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ভোর থেকেই কালচিনির পশ্চিম সাতালি গ্রামে অভিযান শুরু করেছিল বন দফতর। সঙ্গে ছিল সীমা সুরক্ষা বল (এসএসবি) এবং স্থানীয় থানার পুলিশ কর্মীরা। প্রায় ঘণ্টা তিনেক তল্লাশির পরে এক গ্রামবাসীর বাড়ি থেকে ৮.৪০ কুইন্ট্যাল চন্দন কাঠ উদ্ধার করেন বনকর্মীরা। দফতরের এক কর্তা জানান, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা।
আড়াই মাস আগে ওই গ্রামে হানা দিয়েই মিলেছিল প্রায় কোটি টাকার রক্ত চন্দন। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্তার কথায়, ‘‘কাঠ পাচারের সঙ্গে স্থানীয় বিধায়কের জড়িত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আমরা শুধু প্রমাণের অপেক্ষায় রয়েছি।’’ উইলসন অবশ্য বলছেন, ‘‘মিথ্যে অভিযোগ করা হচ্ছে আমার বিরুদ্ধে। আইন আইনের পথে চলুক। তাতেই সত্য প্রমাণিত হবে।’’
দিন কয়েক ধরেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা মারফত বন দফতর এবং এসএসবি’র কাছে খবর পাঠানো হচ্ছিল, পশ্চিম সাতালি গ্রামে লুকিয়ে রাখা হয়েছে বেশ কিছু চন্দন কাঠ। তার জেরেই এ দিনের অভিযান।
এ দিন ভোরে প্রথমে বস্তিবাজার এলাকায় রাজকুমার মণ্ডল নামে এক গ্রামবাসীর বাড়িতে হানা দেয় এসএসবি। ঘরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা রক্ত চন্দনের ৮২টি গুঁড়ি উদ্ধার করা হয় সেখান থেকে। উদ্ধার হয় বেশ কিছু শাল ও সেগুন কাঠ, একটি হরিণের শিং এবং ভুটানে তৈরি অন্তত ৩৭ কার্টন বিয়ার। তবে রাজকুমারের খোঁজ মেলেনি। বাড়িতে অন্য কাউকে না পেয়ে তার দিদি সুপ্রিয়াকে জেরা করেন বনকর্মীরা। রাজকুমারের পড়শি বীরবাহাদুর ছেত্রীর বাড়ির উঠোন খুঁড়েও উদ্ধার হয় ১০-১২টি রক্ত চন্দনের গুঁড়ি।
আড়াই মাস আগে, ওই গ্রামে হানা দিয়ে রমেল কার্জির বাড়ি থেকে  বিপুল পরিমাণ রক্ত চন্দন কাঠ উদ্ধার করেছিলেন বনকর্মীরা। মালতি নার্জারি নামে এক মহিলার বাড়ির লাগোয়া পুকুর থেকেও পাওয়া গিয়েছিল রক্ত চন্দন। সেই সময়  রমেলের দাবি ছিল, ওই চোরাই মাল উইলসানের বাবা সুবিন চম্প্রমারির নির্দেশেই নিজের ঘরে রেখেছিল সে। এর পরেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা নবান্নে চিঠি পাঠিয়ে,  রক্ত চন্দন পাচারে উইলসনের যোগসাযশ রয়েছে বলে দাবি করে। পরে ওই এলাকায় হানা দিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা সৌন্দরা রাজন নামে এক যুবককেও গ্রেফতার করে পুলিশ।
উত্স : আনন্দবাজারের খবর

Comments